প্রযুক্তি, ব্যবসা, বৈশ্বিক প্রবণতা ২০২৬

মো. জয়নাল আব্দীন
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (T&IB)
এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, অনলাইন ট্রেনিং একাডেমি (OTA)
সেক্রেটারি জেনারেল, ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI)

 

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালের কৌশলগত পুনর্গঠন একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। এই যুগটিকে সংজ্ঞায়িত করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিকার্বোনাইজেশন (decarbonization) এবং আর্থিক বাজারের ডিজিটাল রূপান্তর। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কেবল টিকে থাকার জন্য নয়, বরং এক্সপোনেশিয়াল গ্রোথ (exponential growth) অর্জনের জন্য উদ্ভাবনী সমাধানগুলির সন্ধানে রয়েছে। এই প্রতিবেদনটি সেই প্রধান ক্ষেত্রগুলি এবং কৌশলগত বিনিয়োগের প্রবণতাগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছে, যা আগামী দশকে বিশ্বকে পরিবর্তিত করতে পারে।

 

. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ডেটা প্ল্যাটফর্মের নতুন দিগন্ত

২০২৬ সালের মধ্যে প্রযুক্তি জগতে যে দশটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে এজেন্টিক এআই (Agentic AI), ৬জি নেটওয়ার্ক, সিনথেটিক বায়োলজি (Synthetic Biology) এবং কোয়ান্টাম সিস্টেম। এই প্রযুক্তিগুলি ব্যবসার মডেল, বিনিয়োগ এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাগুলিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে।

এজেন্টিক এআই এবং ডোমেন বিশেষজ্ঞতা

এজেন্টিক এআই (Agentic AI) বা স্বায়ত্তশাসিত এআই সিস্টেমগুলির মাধ্যমে এন্টারপ্রাইজ ওয়ার্কফ্লোর পুনর্গঠন আগামী দশকের অন্যতম শক্তিশালী সুযোগ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় শূন্য থেকে বেড়ে ২০২৮ সালের মধ্যে এন্টারপ্রাইজ সিদ্ধান্তগুলির ১৫% পর্যন্ত এজেন্টিক এআই গ্রহণ করতে পারে। যারা এই প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ করেছে, তারা ম্যানুয়াল কাজ ৪০% থেকে ৬০% পর্যন্ত কমাতে পেরেছে বলে জানিয়েছে।

তবে, জেনেরিক এআই-এর যুগ শেষ হয়ে এখন বিশেষজ্ঞ বুদ্ধিমত্তার যুগ শুরু হয়েছে। অর্থ, স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনি শিল্পের মতো নিয়ন্ত্রক-সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলির জন্য ডোমেন-নির্দিষ্ট লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (Domain-Specific LLMs) প্রয়োজন। এই মডেলগুলি শিল্প-নির্দিষ্ট ডেটা এবং নিয়মাবলীর উপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষিত হওয়ায়, এরা উচ্চতর নির্ভুলতা, সম্মতি (compliance) এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে। উদাহরণস্বরূপ, ডোমেন-নির্দিষ্ট মডেলগুলি প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ত্রুটি-সম্পর্কিত খরচ ৩৭% হ্রাস করতে এবং বিনিয়োগের উপর রিটার্ন (ROI) ৪২% পর্যন্ত উন্নত করতে পারে। জেনেরিক এআই প্রদানকারী সংস্থাগুলিও এখন কেবল সাধারণ মডেল না দিয়ে, বরং পেশাদারদের সমস্যা সমাধানের জন্য শিল্প-নির্দিষ্ট টুলস (যেমন Anthropic-এর ফিনান্সিয়াল টুল) অফার করার দিকে ঝুঁকছে।

স্বাস্থ্যসেবায় এআই ডিজিটাল রূপান্তর

স্বাস্থ্যসেবা শিল্প এন্টারপ্রাইজ এআই গ্রহণে গতি নির্ধারণ করছে। এই দ্রুত রূপান্তরের ফলস্বরূপ এই খাতে আটটি এআই ইউনিকর্ন এবং $৫০০ মিলিয়ন থেকে $১ বিলিয়ন মূল্যের বহু ক্রমবর্ধমান কোম্পানি তৈরি হয়েছে।

এআই-এর প্রথম সফল প্রয়োগ ক্ষেত্রগুলির মধ্যে একটি হল অ্যাম্বিয়েন্ট স্ক্রাইব (Ambient Scribes), যা ২০২৫ সালে $৬০০ মিলিয়ন রাজস্ব তৈরি করেছে (+২.৪ গুণ বৃদ্ধি)। এই সিস্টেমগুলি ডাক্তার-রোগী কথোপকথন শুনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লিনিকাল নোট তৈরি করে, যা চিকিৎসকদের রোগীর যত্নের জন্য ব্যয় করা প্রতি পাঁচ ঘণ্টার জন্য এক ঘণ্টা করে ডকুমেন্টেশনের সময় বাঁচায়। এছাড়া, এআই এখন ইলেকট্রনিক প্রিঅথোরাইজেশন সমাধানে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পূর্বে দিন বা সপ্তাহব্যাপী চলত, তা এখন মিনিটে সম্পন্ন হতে পারে।

ডিজিটাল মানসিক স্বাস্থ্য (Digital Mental Health) বাজারও দ্রুত বাড়ছে। অনলাইন থেরাপি এবং এআই-চালিত প্ল্যাটফর্মগুলির চাহিদা বাড়ায়, এই বাজার ২০২৪ সালে $২৭.৮৪ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে $১৫৩.০৩ বিলিয়নে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হয়, যা প্রায় ১৮.৫৮% যৌগিক বার্ষিক বৃদ্ধির হার (CAGR)।

 

ডেটা প্ল্যাটফর্ম: প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা

বিগ ডেটা এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের ক্ষেত্রে ডেটা প্ল্যাটফর্মগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। Databricks এর মতো সমাধানগুলি কোম্পানিগুলিকে বিশাল পরিমাণ সংগঠিত (structured) এবং অসংগঠিত (unstructured) ডেটা কার্যকরভাবে প্রক্রিয়া করতে সাহায্য করে। এটি স্বাস্থ্যসেবা (চিকিৎসা প্রোটোকল উন্নত করতে) বা লজিস্টিকসের মতো শিল্পগুলিতে ডেটা-চালিত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে, যা একটি শক্তিশালী প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করে।

 

. নেট জিরো পরিকাঠামো এবং সার্কুলার অর্থনীতির অনিবার্যতা

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী নেট-জিরো (Net-Zero) লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। ১১০টি-র বেশি দেশ নেট-জিরো প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে। এর জন্য দুটি প্রধান কৌশলগত ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ: সবুজ হাইড্রোজেন (Green Hydrogen) এবং কার্বন ক্যাপচার ও ইউটিলাইজেশন (CCU)

সবুজ হাইড্রোজেন: চ্যালেঞ্জ শিল্পে নেতৃত্ব

সবুজ হাইড্রোজেন (Green Hydrogen), যা নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে ইলেক্ট্রোলাইসিসের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়, তা ভারী দূষণকারী শিল্পগুলিতে জীবাশ্ম জ্বালানি অপসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও সবুজ হাইড্রোজেনকে কার্বন-মুক্ত শক্তি বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এর প্রযুক্তি এখনও বাণিজ্যিক পরিপক্বতা অর্জন করতে সংগ্রাম করছে।

  • শিল্পে প্রাধান্য: বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে সবুজ হাইড্রোজেনের প্রধান ব্যবহারিক ক্ষেত্র হলো শিল্প খাত, যেখানে এটি মোট স্থাপিত ক্ষমতার (installed power) ৭৭% দখল করে। এটি বিশেষত কঠিন-থেকে-হ্রাস (hard-to-abate) শিল্প যেমন ইস্পাত তৈরি (steelmaking), অ্যামোনিয়া উৎপাদন (যেমন সৌদি আরবের NEOM গ্রিন হাইড্রোজেন প্রজেক্ট ২০২৬ সালের মধ্যে চালু হবে) এবং পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে মনোযোগ পাচ্ছে।
  • আর্থিক চ্যালেঞ্জ: সবুজ হাইড্রোজেনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর উচ্চ উৎপাদন খরচ। বর্তমানে, সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের Levelized Cost of Hydrogen (LCOH) $৩.৭ থেকে $১১.৭ প্রতি কেজি, যেখানে প্রচলিত ধূসর (Gray) হাইড্রোজেনের দাম $১.১ থেকে $২.৩ প্রতি কেজি। শক্তিশালী নীতি ও আর্থিক প্রণোদনা ছাড়া বৈশ্বিক স্তরে এই ব্যয়ের সমতা আনা কঠিন।

 

কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন (CCU) সার্কুলার ইকোনমি

কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন এবং স্টোরেজ (CCUS) প্রযুক্তিগুলি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রিফাইনারি এবং সিমেন্ট উৎপাদনের মতো বৃহৎ পয়েন্ট সোর্স থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গমন কমাতে অপরিহার্য। CCUS বিশেষত সিমেন্ট শিল্পে গভীর নির্গমন হ্রাসের জন্য কার্যত একমাত্র পরিচিত প্রযুক্তিগত বিকল্প, যা বিশ্বের প্রায় ৭% নির্গমন তৈরি করে।

CO2 কে শিল্প উৎপাদনের জন্য একটি মূল্যবান কাঁচামাল (commodity) হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, সৌরশক্তি-চালিত একটি সিস্টেম প্লাস্টিক বর্জ্য এবং গ্রিনহাউস গ্যাসগুলিকে টেকসই জ্বালানিতে রূপান্তরিত করতে পারে, যা একটি সার্কুলার অর্থনীতি বা বৃত্তাকার অর্থনীতির বিকাশে সাহায্য করে। এই বৃত্তাকার অর্থনীতির মডেলগুলির মধ্যে রয়েছে সার্কুলার সরবরাহ (circular supply), সম্পদ পুনরুদ্ধার (resource recovery), পণ্যের জীবন সম্প্রসারণ (product life extension), ভাগ করে নেওয়া (sharing) এবং পণ্য পরিষেবা সিস্টেম (product service system)।

প্রযুক্তি, ব্যবসা, ও বৈশ্বিক প্রবণতা ২০২৬
Mr. Mauro Vieira, Minister, Ministry of Foreign Affairs, Government of the Federative Republic of Brazil

. ব্লকচেইন, মহাকাশ অর্থনীতি ভেঞ্চার ক্যাপিটালের গতিপ্রকৃতি

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (VC) বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতি এখন গভীর প্রযুক্তি (Deep Tech) এবং আর্থিক বাজারের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছে।

RWA টোকেনাইজেশন: $৯.৪৩ ট্রিলিয়ন ডলারের সেতু

রিয়েল-ওয়ার্ল্ড অ্যাসেট (RWA) টোকেনাইজেশন হলো ঐতিহ্যবাহী আর্থিক সম্পদ (যেমন রিয়েল এস্টেট, বন্ড, আর্টওয়ার্ক) এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির একটি বিপ্লবী সংমিশ্রণ। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক টোকেনাইজড RWA বাজার $.৪৩ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা প্রায় ৭২.৮% যৌগিক বার্ষিক বৃদ্ধির হার (CAGR) নির্দেশ করে।

এই প্রযুক্তি উচ্চ প্রবেশাধিকার খরচ, ধীর গতির কাগজপত্র এবং সীমিত তারল্যের মতো ঐতিহ্যবাহী বাধাগুলি দূর করে বিনিয়োগের গণতন্ত্রীকরণ ঘটাতে সাহায্য করে। রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে, ব্লকচেইন ব্যবহার করে সম্পদগুলিকে ডিজিটাল টোকেনে পরিণত করা যায়, যা লেনদেনকে স্বয়ংক্রিয় এবং স্বচ্ছ করে তোলে। এর জন্য ERC3643-এর মতো টোকেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে RWA প্ল্যাটফর্মগুলি চালু হওয়া সত্ত্বেও, তারা প্রতিনিয়ত নিয়ন্ত্রক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যা ক্রস-বর্ডার কমপ্লায়েন্স এবং আইনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

ইউনিকর্ন, ডেকাকর্ন এবং গভীর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এখন স্বাস্থ্যসেবা, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এবং ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির মতো স্থিতিস্থাপক (resilient) সেক্টরগুলিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০২৩ সালের Q3-এ শুধুমাত্র এআই স্টার্টআপগুলিতে $১৮.৯ বিলিয়ন বিনিয়োগ করা হয়েছে।

$১০ বিলিয়ন বা তার বেশি মূল্যের প্রাইভেট কোম্পানিকে ডেকাকর্ন বলা হয়। এই উচ্চ-মূল্যায়নের কোম্পানিগুলির মধ্যে রয়েছে Databricks ($৪৩ বিলিয়ন, যা একটি ইউনিফাইড ডেটা অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্ম) এবং Anthropic ($২১০.৫ বিলিয়ন হিসাবে Forge Price™ অক্টোবর ১৫, ২০২৫ পর্যন্ত)। ডিপ টেক-এ বিশাল বাজি ধরার প্রমাণস্বরূপ, PsiQuantum (কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কোম্পানি) $২.৩ বিলিয়ন মূলধন সংগ্রহ করেছে।

Anthropic-এর মতো দ্রুত বর্ধনশীল কোম্পানিগুলি তাদের মার্কেটিং কৌশলে সরলতা এনেছে। তারা প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়িয়ে সংক্ষিপ্ত, গ্রাহককেন্দ্রিক সাফল্য গল্প (customer success stories) ব্যবহার করে যা সরাসরি ব্যবসার ROI (Return on Investment) তুলে ধরে। এই পদ্ধতিটি তাদের ৬০০০০ এর বেশি অর্গানিক মাসিক ভিজিট এনে দিয়েছে।

মহাকাশ অর্থনীতি এবং অন্যান্য উদ্যোগ

মহাকাশ শিল্পেও বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ছে। সরকারগুলি বাণিজ্যিক প্রসারণকে সমর্থন করার জন্য নীতি ও অর্থায়নকে পুনর্বিন্যাস করছে, যা একটি সত্যিকারের অফওয়ার্ল্ড অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।

এদিকে, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায়ও নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফ্রেইট ব্রোকারেজ (Freight Brokerage) হলো এমন একটি লজিস্টিকস কোম্পানি যা পরিবহণকারী এবং পণ্য স্থানান্তরকারী সংস্থাগুলির মধ্যে মধ্যস্থতা করে, যা সময় এবং দর কষাকষির প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এছাড়া, হার্ডওয়্যার সংগ্রহের জন্য সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মগুলিও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও কার্যপ্রবাহকে কেন্দ্রীভূত করতে সাহায্য করছে।

 

. বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন জনসংখ্যা গতিবিদ্যা

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির অগ্রগতি ঘটলেও, জনসংখ্যা ও উন্নয়নের মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলি এখনও অনেক অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ, যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার দিক থেকে অষ্টম স্থানে রয়েছে।

জনসংখ্যা এর প্রভাব

২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১০৯৬ জন লোক বাস করে। আয়তনের তুলনায় লোকসংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সীমিত সম্পদের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

  • কৃষি জমি খাদ্য: অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। বর্ধিত জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগান দেওয়া দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে কঠিন হওয়ায়, প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় বাড়ায়।
  • কর্মসংস্থান বাসস্থান: অতিরিক্ত জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চাকরি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে না, ফলে বেকারত্ব বাড়ছে। বাসস্থান সংকটে গ্রামীণ এলাকার তুলনায় শহরাঞ্চলে সমস্যা বেশি, যেখানে অনেক ছিন্নমূল মানুষ রেললাইন, রাস্তা বা ফুটপাতে বসবাস করে।
  • পরিবেশ ও স্বাস্থ্য: অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ ঢাকা মহানগরীসহ বড় শহরগুলিতে ট্র্যাফিক জ্যাম, দূষণ (বায়ু, জল, শব্দ, মাটি) এবং বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটায়।

 

মানব সম্পদে রূপান্তরের কৌশল

এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে বোঝা (burden) হিসেবে বিবেচনা না করে মানব সম্পদে পরিণত করা (human capital) সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য অপরিহার্য। এর জন্য কিছু মৌলিক উপাদান নিশ্চিত করা জরুরি:

  • শিক্ষা প্রশিক্ষণ: কর্মমুখী শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করা।
  • স্বাস্থ্য পুষ্টি: পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করা।
  • প্রযুক্তি ও কৃষি রূপান্তর: সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (Industry 4.0) সাথে সামঞ্জস্য রেখে কৃষি খাতের উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, রোবটিক্স, আইওটি, বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস, ব্লকচেইন, এআই, জিন এডিটিং এবং স্পিড ব্রিডিং-এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। এই প্রযুক্তিগুলি জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীলতা বাড়াতে এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

 

সামগ্রিকভাবে, বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি এবং পরিবেশগত রূপান্তরের এই জোয়ার নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলি যখন এজেন্টিক এআই বা সবুজ হাইড্রোজেনের মতো যুগান্তকারী প্রযুক্তিকে পুঁজি করে বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন অর্জন করছে, তখন বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য এই প্রযুক্তিগুলিকে মানব সম্পদ উন্নয়নে এবং মৌলিক আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় কৌশলগত অগ্রাধিকার।

Opportunities in Brazil–Bangladesh Trade: A Decade-Long Analysis
Opportunities in Brazil–Bangladesh Trade: A Decade-Long Analysis

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *